বর্তমান সময়ে দুইটা কথা খুব বেশি শোনা যাচ্ছে। একটি হচ্ছে জঙ্গিবাদ এবং অপরটি হচ্ছে অসাম্প্রদায়িকতা বা অসম্প্রদায়িক। আর মজার ব্যাপার হল এই দুটি শব্দ দুটি নির্দিষ্ট এবং মুষ্টিমেয় মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং তারা সম্পূর্ণ ভাবে পরস্পর বিরোধী এবং বিপরীত মেরুর মানুষ। তাহলে ১৬ কোটি বাংলাদেশের জনগন থেকে এই মুষ্টিমেয় মানুষগুলোকে বাদ দিলে যারা থাকেন তারা কি? যাহোক, বাদবাকি মানুষ গুলো কি এটা তারা নিজেরা ঠিক করবেন বা কোন কারনে এই দুইটার মধ্যে পরে গেলে আমার এই লেখা আরও সহজ হয়ে যাবে।
মূলত আমার আজকে লেখার বিষয়বস্তু অসাম্প্রদায়িকতা বা অসম্প্রদায়িক। এর সাথে আরও একটা বিষয় স্পর্শ করে যাবো আর টা হল জঙ্গি বা জঙ্গিবাদ। আসুন তাহলে প্রথমে দেখি সাম্প্রদায়িকতা কি তারপর না হয় আমরা অসাম্প্রদায়িক হবো। সাম্প্রদায়িকতা হচ্ছে কোন ব্যক্তির/গোষ্ঠীর বিশেষ কোন ধর্মীয় অনুভুতি বা বিশ্বাস। সেটা হতে পারে ইসলাম, হিন্দু, বুদ্ধ, খ্রিস্টান বা ইহুদি। এর যে কোন একটা ধর্মে যদি কারো বিশ্বাস থাকে তাহলে আমারা তাকে বলব সাম্প্রদায়িক। কিন্তু আমরা আপাতদৃষ্টিতে আরও কিছু মুষ্টিমেয় মানুষ কে সম্প্রদায় বলতে পারি যেমন- তরুন সম্প্রদায়, তরুণী সম্প্রদায়, বৃদ্ধ সম্প্রদায়। এরা হতে পারে নিদিষ্ট কোন এক ধর্মের অথবা বিভিন্ন ধর্মের। তাহলে অসম্প্রদায়িকতা কি? মুলত একটি দেশে মুসলিম, ইসলাম, হিন্দু, বুদ্ধ, খ্রিস্টান বা ইহুদি পরস্পর একসাথে মিলেমিশে থাকাটাই হল অসম্প্রদায়িকতা। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমি ধর্ম নিরপেক্ষ। আমরা বাংলাদেশের মানুষেরা বিশেষ করে তরুন সমাজ আজ এই একটা বিষয় গুলিয়ে ফেলছি। কারন আমরা এখন মুসলিম এর চেয়ে অসম্প্রদায়িকতা তথা ধর্ম নিরপেক্ষ বলে পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। এটা অবশ্য আমাদের মত তরুনদের দোষ নয়। আমরা যা দেখছি, যা শুনছি, আমাদের আইকন বেক্তি যা বলছে তাই বিশ্বাস করছি। কারন আজ দাঁড়ি, টুপি, পাঞ্জাবি পরা লোকদের জঙ্গি বলা হচ্ছে। তাই আমরা দাঁড়ি রাখতে, টুপি, পাঞ্জাবি পরতে ভয় পাচ্ছি। কিন্তু আসলেই কি ইসলাম ধর্মে ধর্ম নিরপেক্ষতার কোন সুযোগ আছে?
কিছু মানবতাবাদী এবং ধর্মবিরোধী লোক আছে যারা কুরআনের নীচের আয়াতগুলোকে ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করতে চায়। আসলে তারা নিজেরাই তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানে না। চলুন, একটু পড়ে দেখিঃ
হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অবিচল থাকবে এবং কোন সম্প্রদায়ের শত্রুতার কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না। সুবিচার কর এটাই খোদাভীতির অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে খুব জ্ঞাত। ***সুরা মায়েদাহঃ আয়াত-০৮।
হে আহলে-কিতাবগণ! তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর শানে নিতান্ত সঙ্গত বিষয় ছাড়া কোন কথা বলো না। নিঃসন্দেহে মরিয়ম পুত্র মসীহ ঈসা আল্লাহর রসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি প্রেরণ করেছেন মরিয়মের নিকট এবং রূহ-তাঁরই কাছ থেকে আগত। অতএব, তোমরা আল্লাহকে এবং তার রসূলগণকে মান্য কর। আর একথা বলো না যে, আল্লাহ তিনের এক, একথা পরিহার কর; তোমাদের মঙ্গল হবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ একক উপাস্য। সন্তান-সন্ততি হওয়াটা তাঁর যোগ্য বিষয় নয়। যা কিছু আসমান সমূহ ও যমীনে রয়েছে সবই তার। আর কর্মবিধানে আল্লাহই যথেষ্ট। ***সুরা আন-নিসাঃ আয়াত-১৭১।
অতঃপর আমি কাফেরদেরকে ধৃত করেছিলাম। কেমন ছিল আমার আযাব! ***সুরা ফাতিরঃ আয়াত-২৬।
দেখুনতো, উপরের আয়াত গুলোতে কোথাও ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলা আছে কি? ঐ আয়াত গুলোতে ধর্ম নিরপেক্ষতা নয়, বরং অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলা হচ্ছে।ধর্ম নিরপেক্ষতা এবং অসাম্প্রদায়িকতা কি এক বিষয়? ইসলামে কি ধর্ম নিরপেক্ষ থাকার কোন সুযোগ আছে? ধর্ম নিরপেক্ষতা যদি এমন হয় যে, মুসলিম অমুসলিমের বিচারে নিরপেক্ষ থাকা তবে সেটা ঠিক আছে।হজরত উমর(রাঃ) এর একটা ঘটনা আছে। তিনি এক মুসলিমকে হত্যা করেছিলেন। কারন, সেই মুসলিম নবী(সাঃ)-এর বিচারকে পছন্দ করেননি। নবী(সাঃ) এক ইয়াহুদীকে/পৌত্তলিককে বিচারে জয়ী করেন এবং তাকে তার প্রাপ্য সম্পত্তি দিয়ে দেন। মুসলিম লোকটি নবী(সাঃ) বিচার না মেনে উমর(রাঃ)-এর কাছে ছানী বিচার চাইতে গিয়েছিল। উমর(রাঃ) তখন ঐ মুসলিম লোকটিকে হত্যা করেছিলেন। আর বলেছিলেন, যে লোক আললাহ'র রাসুল(সাঃ)-এর ফয়সালা মানে না তার বিচার এমন ভাবেই হয়--- এই বলে হত্যা করেছিলেন।এটা হচ্ছে ইসলামের ধর্ম নিরপেক্ষতা।দুনিয়াতে কিছু লোক আছে তারা নিজেদেরকে মানবতাবাদী এবং ধর্ম নিরপেক্ষ বলে। নিজেদের ধর্ম নিরপেক্ষ বলে তারাই যারা নিজেদের কে মুসলিম পরিচয় দিতে এবং ইসলাম ধর্ম পালন করতে সাছন্দ্য বোধ করে না আবার নাস্তিক ও বলতে পারে না চক্ষু লজ্জার কারনে (আসলে তাদের লজ্জাই নাই) তাই ধর্ম নিরপেক্ষ বলে জাহির করে। তাই সকল তরুণ ভাইদের কাছে আমার আহব্বান আমরা জেনে বুঝে অসম্প্রদায়িক হই কিন্তু ধর্ম নিরপেক্ষ নয়।


Post a Comment