একটি অর্থনৈতিক 'রাবিশ' গল্প


 আবুল মুহিব সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা। সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে উঁচু পদে আছেন তিনি। খুবই বুদ্ধিমান ও রসিক মানুষ। তাঁর বলা রসিকতায় প্রায়শই তাঁর কর্মীরা হেসে ফেলে। প্রতিদিনই দৈনন্দিন খরচাপাতির পর তাঁর পকেটে বেশ কিছু খুচরা পয়সা রয়ে যায়। একদিন ঠিক করলেন, বড় দেখে একটা মাটির ব্যাংক কিনবেন। পয়সাগুলো ওটায় জমিয়ে রাখলে মাস শেষে কিছু পাওয়া যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। একদিন সোনালি কালারের একটা মাটির ব্যাংক কিনে আনলেন তিনি। প্রতিদিনই খুচরা পয়সা ও টাকা জমাতে থাকলেন ওটাতে। মুহিব সাহেবের দুই সন্তান। দুটিই ছেলে। একজনের নাম রণবীর। ক্লাস নাইনে পড়ে। তার ছোট ভাই সাকিব। ক্লাস ফোরে পড়ে। একদিন রণবীর দেখল ব্যাংকে বেশ পয়সা জমেছে। সে ঠিক করল, সোনালি কালারের ওই ব্যাংক থেকে পয়সা চুরি করতে হবে। সঙ্গী হলো ছোট ভাই সাকিব। চিমটা দিয়ে প্রতিদিন নিষ্ঠার সঙ্গে পয়সা ও টাকা বের করতে লাগল। মুহিব সাহেব টেরই পেলেন না। দিন দিন পয়সা কমতে থাকল। ব্যাংক থেকে রণবীর আর সাকিব মিলে দুই হাজার ৬৮০ টাকার পয়সা বের করে ফেলল। কিন্তু চোরের দশ দিন, মুহিব সাহেবের এক দিন। একদিন হাতে-নাতে দুই ছেলেকে ধরে ফেললেন। সব শুনে মুহিবের স্ত্রী, রণবীরদের মা তো রেগে টং। এই বয়সেই চুরি শিখেছে? নিশ্চয়ই আজেবাজে কারো সঙ্গে মিশছে তারা। যদিও অনেক টাকাই খরচ করে ফেলেছে রণবীর, বাকি যা আছে সব নিয়ে নিলেন তিনি এবং নিয়ম করলেন, তারা দুইজন এখন থেকে একটা রুমে বন্দি থাকবে। খাওয়াদাওয়া, পড়ালেখা- সব ওখানেই হবে। এই বলে তিনি তাদের ওই রুমেই বন্দি করে দিলেন।
মুহিব সাহেব মাটির মানুষ। উনার দয়ার সীমা-পরিসীমা মাপার কোনো স্কেল এখনো তৈরি হয়নি। তিনি স্ত্রীকে বললেন ওদের ছেড়ে দিতে।
'কেন ছেড়ে দিব?' চেঁচিয়ে উঠলেন তাঁর স্ত্রী।
'দেখো, ওরা ছেলে মানুষ। একটু দুষ্টুমি করে ফেলেছে। ছেড়ে দিয়ে ওদের হাতে কিছু টাকা ঋণ দেব।'
'বল কি? আবার টাকা দেবে?' বিস্ময়ে হতবাক মিসেস মুহিব।
'আরে শোনোই না। ওরা তো ব্যাংক থেকে নেওয়া বেশির ভাগ টাকাই খরচ করে ফেলেছে। এখন ওই টাকা ফেরত দেবে কিভাবে? আমি ওদের কিছু টাকা দেব। ওই টাকা দিয়ে টুকটাক কিছু করে আমার টাকা ফেরত দেবে।'
'কিন্তু ওদের স্কুলের স্যার যে বলল ওদের শাস্তি দেওয়াটাই জরুরি।'
'আরে ধুর ধুর। ওইসব দুষ্ট লোকের রাবিশ কথাবার্তা বাদ দাও।'
অবশেষে রণবীর আর সাকিবকে ছেড়ে দেওয়া হলো। তাদের হাতে কিছু টাকা তুলে দিলেন মুহিব সাহেব। এসব দিয়ে তারা কিছু করবে, তারপর বাকি টাকা ফেরত দেবে।
'ভাইয়া চলো, আমরা এই টাকাগুলো দিয়ে স্টিকার আর কমিকসের ব্যবসা করি। স্কুলে বিক্রি করে যা পাব, আব্বুকে ফেরত দেব।' বড় ভাইকে পরামর্শ দিল সাকিব।
'হা হা হা। আরে বেকুব আলী।' সাকিবের মাথায় চাটি মারল রণবীর। 'তুই গাধা নাকি রে? স্টিকার, কমিকস বিক্রি করে কীইবা হবে?'
'তা হলে?'
'তুই কি খেয়াল করেছিস আব্বু আবার টাকা জমানো শুরু করেছে?' চোখ নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল রণবীর।
'হ্যাঁ।'
'আগের বার আব্বু আমাদের ধরেছিল কিভাবে মনে আছে?'
'হ্যাঁ। ব্যাংকটা হালকা হয়ে গিয়েছিল।'
'সেটাই। এবার এমন ব্যবস্থা করব, যেন আব্বু ধরতে না পারে। এই টাকা দিয়ে আমরা ওই ব্যবস্থাই করব?'
'ধরা পড়লে?' ভীত সাকিব।
'না না। ধরা পড়ব না। আর পড়লেও সমস্যা নেই।'
রণবীর বীরের মতো আবার চুরি করতে ঝাঁপিয়ে পড়ল। প্রথমেই কিনল একটা লম্বা চিমটা, আগের চিমটাটি ছোট ছিল। এ ছাড়া সে নতুন চালাকি করল। সে যদি প্রতিদিন ২০০ টাকা চুরি করে, তাহলে ৫০ টাকা দোকানে দিয়ে এক টাকার ৫০টি কয়েন কিনে নেয়। সেগুলো ব্যাংকে ফেলে। এতে ব্যাংক ভারী থাকে। বড় ভাইয়ের প্রতিভায় সাকিব মুগ্ধ। কিন্তু এত সুখ সইল না। হাতেনাতে মায়ের কাছে ধরা পড়ল তারা। স্বামীকে একেবারে ধুয়ে ফেললেন মিসেস মুহিব।
'তোমার জন্যই আজকে এ অবস্থা। আগেই বলেছিলাম, আবার টাকা দিও না। এতে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে। তুমি শুনলে না।'
'আরে ছোট ছেলেপুলে। এখন দুষ্টুমির বয়স, বাদ দাও না।'
'কি বল, বাদ দেব?'
'হ্যাঁ। ভাবছি ওদের কিছু টাকা ঋণ দেব?'
'আবার ঋণ?' মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার দশা মিসেস মুহিবের।
'ওরা তো ব্যাংক থেকে নেওয়া বেশির ভাগ টাকাই খরচ করে ফেলেছে। এখন ওই টাকা ফেরত দেবে কিভাবে? আমি ওদের কিছু টাকা দেব, ওই টাকা দিয়ে টুকটাক কিছু করে আমার টাকা ফেরত দেবে।'
অবশেষে রণবীর আর সাকিবকে ছেড়ে দেওয়া হলো। তাদের হাতে মুহিব সাহেব টাকা তুলে দিলেন। এসব দিয়ে তারা কিছু করবে, তারপর বাকি টাকা ফেরত দেবে।

'ভাইয়া চলো, আমরা এই টাকাগুলো দিয়ে স্টিকার আর কমিকসের ব্যবসা করি। স্কুলে বিক্রি করে যা পাব আব্বুকে ফেরত দেব।' বড় ভাইকে পরামর্শ দিল সাকিব।
'হা হা হা। আরে বেকুব আলী।' সাকিবের মাথায় চাটি মারল রণবীর। 'তুই গাধা নাকি রে? স্টিকার, কমিকস বিক্রি করে কীইবা হবে?'
'তা হলে?'
'তুই কি খেয়াল করেছিস আব্বু আবার টাকা জমানো শুরু করেছে?' চোখ নাচিয়ে জিজ্ঞাসা করল রণবীর।...

আপনার মন্তব্য লিখুন

আগের ব্লগ পড়ুন পরের ব্লগ পড়ুন
HTML tutorial